সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার ৪টি শক্তিশালী অভ্যাস!

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন -

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার ৪টি শক্তিশালী অভ্যাস!

আধুনিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না। এই বিশ্বের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রত্যেক মানুষকেই প্রত্যেকের সাথে সংযুক্ত হতে হয়, যোগাযোগ করতে হয় এবং শিখতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের এই কাজগুলো খুব সহজেই করতে সাহায্য করে।

এটি আমাদের পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষের সঙ্গে আনন্দময় মুহূর্তও উপহার দেয়।

কিন্তু সমস্যা এখানেই শুরু হয়। মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না — কখন এই অভিজ্ঞতাকে থামানো বা একটু বিরতি দেওয়া উচিত। কারণ প্রতিবার আপনি আনন্দিত, খুশি বা উত্তেজিত হলে আপনার শরীরে আরও বেশি ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়[][]। ফলে আরও বেশি ডোপামিন পাওয়ার আশায় মস্তিষ্ক আপনাকে সেই কাজটি আবার করতে বলে।

আর এভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করে। এই কারণে আপনি যখন কোনো খেলায় জেতেন, সেরা কোনো স্বাদ পান, কিংবা নিজের গুরুত্ব অনুভব করেন — তখন আপনার মস্তিষ্ক আরও আনন্দ পাওয়ার জন্য বেশি ডোপামিন নিঃসরণ করে।

এই কারণেই আপনি সেই আনন্দময় বা উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলো বারবার দেখতে বা অনুভব করতে চান। এভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হওয়ার যাত্রা শুরু হয়।

আশা করি, এখন আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি কীভাবে তৈরি হয় — তার একটি প্রাথমিক ধারণা পেয়েছেন। এবার চলুন, এর প্রতিরোধ নিয়ে কথা বলি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি কীভাবে কাটাবেন?

একজন সাধারণ মানুষের মতো আমি আপনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করতে বলব না। না, কখনোই না!

আগেই বলেছি, এটি বিনোদনের জন্য একটি কার্যকর মাধ্যম — যতক্ষণ আপনি নিয়ন্ত্রণে থাকেন।

বরং, আমি আপনাদের সঙ্গে এমন একটি শক্তিশালী অভ্যাস শেয়ার করব, যা আসক্তি পুরোপুরি বন্ধ করবে — ব্যবহার নয়। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন!

নিচের এই ৪টি শক্তিশালী অভ্যাস অনুসরণ করলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করবেন কি করবেন না — সিদ্ধান্ত একমাত্র আপনার হাতেই থাকবে।

এই ৪টি অভ্যাস হলো—

  1. যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ ব্যবহার না করে, ওয়েব ব্রাউজার (যেমন: Chrome, Brave, Firefox, Microsoft Edge ইত্যাদি) দিয়ে ব্যবহার করুন।
  2. ওয়েব ব্রাউজারে সবসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Incognito Mode বা Private Mode-এ ব্যবহার করুন।
  3. পাসওয়ার্ড খুব লম্বা ও জটিল রাখুন (বিশেষ চিহ্ন, সংখ্যা, ছোট ও বড় অক্ষরের সমন্বয়ে)। কোথাও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করবেন না, যেন কপি-পেস্ট করা না যায়।
    [যদি বারবার পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে একটি গোপন নোটবুকে ইঙ্গিত আকারে লিখে রাখতে পারেন।]
  4. পোস্ট করা কমিয়ে দিন বা পুরোপুরি বন্ধ করুন। একইভাবে, কোনো কিছুতে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকুন।

কেন এই ৪টি অভ্যাস অনুসরণ করবেন?

  1. যখন আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ ব্যবহার করেন, তখন সেটি ক্রমাগত আপনার বা অন্যদের কার্যকলাপ সম্পর্কে নোটিফিকেশন পাঠায়। এর উদ্দেশ্য আপনাকে আবার অ্যাপে ফিরিয়ে আনা। শুধু তাই নয়, ফোনে অ্যাপ থাকলেই বারবার ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হয়[][]। এই কারণেই অনেক ওয়েবসাইট আপনাকে তাদের অ্যাপ ইনস্টল করতে বলে। তাই আসক্তি কমাতে অ্যাপ নয়, ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
  2. ওয়েব ব্রাউজারে Incognito/Private Mode ব্যবহার করলে প্রতিবার ব্যবহার করতে আপনাকে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে।
  3. বারবার লম্বা ও জটিল পাসওয়ার্ড টাইপ করতে গেলে একসময় বিরক্ত লাগবে। এই বিরক্তিই আপনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কম ব্যবহার করতে সাহায্য করবে।
  4. আপনি যখন কিছু পোস্ট করেন (লেখা, ছবি বা ভিডিও), তখন সেটিতে লাইক বা কমেন্ট আসে।
    পোস্ট → প্রতিক্রিয়া পাওয়া → আনন্দ পাওয়া → আবার পোস্ট করা
    এই চক্র আপনাকে আরও বেশি পোস্ট করতে প্রলুব্ধ করে। এই ফাঁদে না পড়তে পোস্ট করা বন্ধ করুন। একইভাবে, অন্যদের পোস্টে প্রতিক্রিয়া দেওয়া থেকেও বিরত থাকুন। কারণ এটিও একই চক্র তৈরি করে—
    প্রতিক্রিয়া দেওয়া → অন্যরা লক্ষ্য করে → আনন্দ পাওয়া → আবার প্রতিক্রিয়া দেওয়া

আমি জানি, প্রথম কয়েকদিন এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করা আপনার জন্য কঠিন হবে। কিন্তু একবার এগুলো মেনে চলা শুরু করলে, আপনি নিজেই নিজের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করবেন।


এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন -

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🔒 মন্তব্য করতে Google দিয়ে সাইন ইন করুন

সূচিপত্র
Scroll to Top